রেনু চাষ

 

রেনুর পরিচর্যা

রেনু হলো খুবই সংবেদনশীল।
পোনা মাছ, চারা মাছ, বড় মাছ যে পরিমাণে ধকল ও বিরূপ পরিবেশ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারে, সে তুলনায় রেনু অনেক সংবেদনশীল হয়ে থাকে।
রেনু চাষে সফল হতে গেলে কয়েকটি কাজ সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে করতে হবে।
(১) পুকুর প্রস্ততি (২) রেনু পরিবহন (৩) রেনু অবমুক্ত করণ
(৪) খাবার ও পরিচর্যা

(১) গ্রুপে কার্পমাছ এবং বিভিন্ন ক্যাটফিসের পুকুর প্রস্ততি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সহ পোস্ট রয়েছে।
যেনতেন পুকুরে রেনু করা যাবেনা, রেনুর পুকুরের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
সবচেয়ে ভালো হয় রেনুর পুকুর টি ২০ থেকে ৪০ শতকের মধ্যে হলে এবং পানির সেচ দেওয়ার ব্যবস্হা থাকতে হবে।
(২) রেনু পরিবহন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দূরত্ব অনুসারে প্রতিটি পলি ব্যাগে ১০০/১৫০ গ্রাম রেনু দিয়ে পরিমাণ মতো অক্সিজেন ভরে ভালো ভাবে এয়ারটাইট করে মুখ বন্ধ করতে হবে।
পরিবহনের সময় গাড়ির তাপমাত্রা যেন ২৫ থেকে ৩০° ডিগ্রির মধ্যে থাকে এটা নিশ্চিত করতে হবে।
এমন দূরত্বে পোনা পরিবহন করুন, যেন ১২/১৫ ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে যায়।
(৩) রেনু অবমুক্ত করণ :- সকাল ৯টার মধ্যে অথবা সন্ধ্যার পরে রেনু অবমুক্ত করবেন।
রেনুর পুকুরের পিএইস সকালে ৭ এবং সন্ধ্যায় ৮.৫ এর মধ্যে থাকতে হবে, এ্যামোনিয়া থাকতে পারবে সর্বোচ্চ ০.২৫ এর ভেতরে।
প্রথমে পেকেট গুলো পুকুরে ১৫/২০ মিনিট ভাসিয়ে রাখবেন।
তারপর পেকেটের মুখ খুলে আস্তে আস্তে অবমুক্ত করতে হবে, কোনমতে তাড়াহুড়া করা যাবেনা।
সম্পূর্ণ রেনু অবমুক্ত করার পর পানি আন্দোলিত করে, রেনু গুলো কে সারা পুকুরে ছড়িয়ে যেতে বাধ্য করবেন।
সকালে অবমুক্ত করলে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টার মধ্যে শতকে ১০০/১৫০ গ্রাম ভেট স্যালাইন ও ৩ গ্রাম ভিটামিন সি পরিমাণ মতো পানির সাথে মিশিয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দিবেন।
সন্ধ্যায় অবমুক্ত করলে ভেট স্যালাইন ও ভিটামিন সি'র পাশাপাশি শতকে ৫ গ্রাম অক্সিজেন পাউডার দিয়ে দিবেন।
খেয়াল রাখবেন পানির তাপমাত্রা যেন ৩০° ডিগ্রির ওপরে না হয়।
বৃষ্টির সময় অবমুক্ত করলে পুকুরের কয়েকটি জায়গায় কলাপাতা, তাল পাতা অথবা পানি থেকে উপরে পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে দিবেন যা তিন দিন পর সরিয়ে ফেলবেন।
কোন অবস্থায় অতিরিক্ত তাপদাহ, গুমোট আবহাওয়া ও নিম্নচাপ তৈরি হলে রেনু ছাড়া যাবেনা।
রাতে রেনু অবমুক্ত করার পর ঝর্ণার মতো করে পানির সেচ দিতে পারলে খুবই উপকৃত হবেন।
(৪) খাবার :- প্রথম ২৪ ঘন্টা কোন ধরনের খাবার দিবেন না।
রেনু ছাড়ার পর প্রথম তিন দিন ১০০% হারে সিদ্ধ ডিম ব্লেন্ড করে সাথে ময়দা ও পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে লিকুইড তৈরি করে দিনে ৩ বার খাওয়াবেন।
ক্যাটফিস হলে রাতের বেলায় আর কার্পমাছ হলে দিনের বেলায় খাবার দিবেন।
মোট রেনুর ওজনের ৭৫/৮০% হারে তিন দিন পর নার্সারী পাউডার খাওয়ানো শুরু করবেন।
পরিচর্যা :- প্রথম তিন দিন ক্যাটফিস হলে পুকুরের তলা ঘেটে দিবেন ।
প্রয়োজনে প্রথম তিন দিন দিনের বেলায় শতকে ১ গ্রাম করে গ্যাসোনিল, সন্ধ্যায় ৫ গ্রাম করে অক্সিজেন পাউডার দিবেন।
আস্তে আস্তে পানির সেচ দিয়ে গভীরতা বাড়াবেন।
পানি টা অবশ্যই আয়রন ও এ্যামোনিয়া মুক্ত হতে হবে।
তিন দিন পর গামছা বা শাড়ি টেনে দেখুন কি পরিমাণে রেনু টিকলো।
বিঃদ্রঃ কপি করা নিষেধ।

‘‘আমরা বন্ধু আমার ঠিকানা - আমাদের কথা আমাদের প্রযুক্তি, আমার বর্ণমালা’’

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post